বিষয়বস্তুতে চলুন

গ্রোক

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
গ্রোক ইনকর্পোরেটেড
ধরনব্যক্তিগত
শিল্প
প্রতিষ্ঠাকাল২০১৬; ১০ বছর আগে (2016)
প্রতিষ্ঠাতাগণ
  • জোনাথন রস
সদরদপ্তর,
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র
প্রধান ব্যক্তি
জোনাথন রস (সিইও), সানি মাদরা (সিওও)
পণ্যসমূহল্যাঙ্গুয়েজ প্রসেসিং ইউনিট (এলপিইউ)
আয়৫০ কোটি মার্কিন ডলার (২০২৫)[১]
−৮ কোটি ৮০ লক্ষ মার্কিন ডলার (২০২৩)[১]
কর্মীসংখ্যা
২৫০ (২০২৩)
ওয়েবসাইটgroq.com

গ্রোক ইনকর্পোরেটেড হলো একটি মার্কিন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) কোম্পানি যারা এআই অ্যাক্সিলারেটর হিসেবে ব্যবহৃত অ্যাপ্লিকেশন-স্পেসিফিক ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট (এএসআইসি) তৈরি করে। এই স্থাপত্যটি শুরুতে টেনসর স্ট্রিমিং প্রসেসর (টিএসপি) নামে পরিচিত ছিল, কিন্তু চ্যাটজিপিটির সাফল্যের পর লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেলের ব্যাপক ব্যবহারের প্রেক্ষাপটে এর নাম পরিবর্তন করে ল্যাঙ্গুয়েজ প্রসেসিং ইউনিট (এলপিইউ) রাখা হয়। কোম্পানিটি এআই পারফরম্যান্স ত্বরান্বিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কম্পিউটার হার্ডওয়্যার এবং সফটওয়্যার তৈরি করে।

লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল (এলএলএম), ছবির শ্রেণিবিন্যাস এবং ভবিষ্যৎবাণীমূলক বিশ্লেষণের মতো কাজগুলো গ্রোক-এর এলপিইউ-তে দ্রুত সম্পন্ন হয়।

গ্রোক-এর সদর দপ্তর ক্যালিফোর্নিয়ার মাউন্টেন ভিউতে অবস্থিত। এছাড়া ক্যালিফোর্নিয়ার সান জোসে, ওয়াশিংটনের লিবার্টি লেক, কানাডার টরন্টো এবং যুক্তরাজ্যের লন্ডনে এদের অফিস রয়েছে।

২০২৫ সালের ডিসেম্বরে এনভিডিয়া এবং গ্রোক একটি চুক্তির ঘোষণা দেয় যার মূল্যমান প্রায় ২,০০০ কোটি মার্কিন ডলার। এই চুক্তির আওতায় এনভিডিয়া গ্রোক-এর প্রযুক্তি ব্যবহারের অনুমতি (লাইসেন্স) পাবে এবং গ্রোক-এর বেশ কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এনভিডিয়াতে যোগ দেবেন। তবে গ্রোক জানিয়েছে যে তারা একটি স্বাধীন কোম্পানি হিসেবে কাজ চালিয়ে যাবে।

ইতিহাস

[সম্পাদনা]

২০১৬ সালে জোনাথন রস এবং ডগলাস ওয়াইটম্যানের নেতৃত্বে একদল সাবেক গুগল প্রকৌশলী গ্রোক প্রতিষ্ঠা করেন। জোনাথন রস গুগলের টেনসর প্রসেসিং ইউনিট (টিপিইউ) ডিজাইনারদের একজন ছিলেন।

২০১৭ সালে সোশ্যাল ক্যাপিটালের চ্যামাথ পালিহাপিটিয়া থেকে কোম্পানিটি ১ কোটি ডলার প্রাথমিক বিনিয়োগ পায়। ২০২১ সালের এপ্রিলে তারা টাইগার গ্লোবাল ম্যানেজমেন্ট এবং ডি১ ক্যাপিটাল পার্টনার্সের নেতৃত্বে ৩০ কোটি ডলার বিনিয়োগ সংগ্রহ করে। এই বিনিয়োগের পর গ্রোক-এর বাজার মূল্য ১০০ কোটি ডলার ছাড়িয়ে যায় এবং এটি একটি ইউনিকর্ন স্টার্টআপে পরিণত হয়।

২০২২ সালের ১ মার্চ গ্রোক 'ম্যাক্সেলার টেকনোলজিস' নামক একটি কোম্পানি অধিগ্রহণ করে। ২০২৩ সালের ১৬ আগস্ট গ্রোক তাদের পরবর্তী প্রজন্মের চিপ তৈরির জন্য স্যামসাং ইলেকট্রনিক্সের টেক্সাস কারখানাকে নির্বাচিত করে।

২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে গ্রোক তাদের ডেভেলপার প্ল্যাটফর্ম 'GroqCloud' উন্মুক্ত করে। একই বছর আগস্টে ব্ল্যাকরক প্রাইভেট ইক্যুইটি পার্টনার্সের নেতৃত্বে তারা ৬৪ কোটি ডলার বিনিয়োগ পায়, যা কোম্পানির মূল্য ২৮০ কোটি ডলারে উন্নীত করে। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে সৌদি আরব তাদের এআই অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য গ্রোক-এর সাথে ১৫০ কোটি ডলারের একটি চুক্তি সম্পন্ন করে।

২০২৫ সালের ডিসেম্বরে এনভিডিয়া প্রায় ২,০০০ কোটি ডলারে গ্রোক-এর সম্পদ ক্রয়ের চুক্তি করে, যা এনভিডিয়ার ইতিহাসে সর্ববৃহৎ চুক্তি। এই চুক্তির অংশ হিসেবে গ্রোক-এর প্রতিষ্ঠাতা রস এবং প্রেসিডেন্ট সানি মাদরা এনভিডিয়াতে যোগ দেন।

ল্যাঙ্গুয়েজ প্রসেসিং ইউনিট

[সম্পাদনা]
Image
গ্রোক-এর প্রথম স্ট্রিমিং প্রসেসরের অভ্যন্তরীণ দৃশ্য

গ্রোক-এর প্রসেসর শুরুতে টেনসর স্ট্রিমিং প্রসেসর (টিএসপি) নামে পরিচিত ছিল, যার সাংকেতিক নাম ছিল "অ্যালান"। পরবর্তীতে এর কাজকে আরও স্পষ্টভাবে বোঝাতে জোনাথন রস এবং মার্ক হিপস এর নাম পরিবর্তন করে ল্যাঙ্গুয়েজ প্রসেসিং ইউনিট (এলপিইউ) রাখেন।

এলপিইউ-এর বিশেষত্ব হলো এর মাইক্রোআর্কিটেকচার, যা এআই মডেলের বিশাল তথ্য উপাত্ত খুব দ্রুত প্রসেস করতে পারে। এটি প্রচলিত হার্ডওয়্যারের তুলনায় অনেক বেশি কার্যকর কারণ এটি ডেটা প্যারালালিজম ব্যবহার করে এবং এর কার্যক্রম সম্পূর্ণভাবে কম্পাইলার দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। এর ফলে এটি অত্যন্ত নির্ভুলভাবে এবং কম শক্তি খরচ করে কাজ করতে সক্ষম।

প্রথম প্রজন্মের এলপিইউ ১৪ ন্যানোমিটার চিপে তৈরি করা হয়েছিল। দ্বিতীয় প্রজন্মের এলপিইউ স্যামসাং-এর ৪ ন্যানোমিটার প্রযুক্তিতে তৈরি করা হবে। গ্রোক বর্তমানে তাদের ওয়েবসাইটে সাধারণ মানুষের জন্য বিভিন্ন ওপেন-সোর্স লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল ব্যবহারের সুযোগ দিচ্ছে।

আরও দেখুন

[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. 1 2 উদ্ধৃতি ত্রুটি: <ref> ট্যাগ বৈধ নয়; "nieva2024" নামের সূত্রটির জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি

বহিঃসংযোগ

[সম্পাদনা]