মার্কিন গৃহযুদ্ধ
| মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গৃহযুদ্ধ | |||||||
|---|---|---|---|---|---|---|---|
উপরে বামে: টেনেসির স্টোনস রিভারের যুদ্ধে উইলিয়াম রসক্র্যান্স, উপরে ডানে: গ্যাটিসবার্গের যুদ্ধে বন্দী কনফেডারেট সৈনিক, নিচে: আরাকানসের ফোর্ট হাইন্ডম্যানের যুদ্ধ | |||||||
| |||||||
| বিবাদমান পক্ষ | |||||||
|
|
| ||||||
| সেনাধিপতি ও নেতৃত্ব প্রদানকারী | |||||||
|
|
| ||||||
| শক্তি | |||||||
| ২১,০০,০০০ | ১০,৬৪,০০০ | ||||||
| হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতি | |||||||
|
যুদ্ধে মৃত্যু: ১,১০,০০০ মোট মৃতের সংখ্যা: ৩,৬০,০০০ আহত: ২,৭৫,২০০ |
যুদ্ধে মৃত্যু: ৯৩,০০০ মোট মৃতের সংখ্যা: ২,৬০,০০০ আহত: ১,৩৭,০০০+ | ||||||
| মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাস |
|---|
| ধারাবাহিকের একটি অংশ |
|
|
মার্কিন গৃহযুদ্ধ (১২ এপ্রিল, ১৮৬১ - ২৬ মে, ১৮৬৫) ছিল আমেরিকার নিজেদের মধ্যে এক রক্তক্ষয়ী লড়াই। এক পাশে ছিল উত্তরের রাজ্যগুলো, যাদের বলা হতো ইউনিয়ন, আর অন্য পাশে দক্ষিণের কিছু রাজ্য মিলে গঠন করা কনফেডারেসি। মূল ঝামেলার কারণ ছিল দাসপ্রথা—নতুন পশ্চিমাঞ্চলীয় এলাকাগুলোতে দাস রাখার অনুমতি দেওয়া হবে কি না, তাই নিয়ে। দক্ষিণ চাইছিল দাসপ্রথা আরও ছড়িয়ে পড়ুক, যাতে তাদের প্রভাব বাড়ে। উত্তর চাইছিল এটা বন্ধ করতে, যেন দাসপ্রথা ধীরে ধীরে মুছে যায়।
দাসপ্রথা নিয়ে বছরের পর বছর ধরে টানাটানি চলছিল। শেষে ১৮৬০ সালে আব্রাহাম লিঙ্কন, যিনি দাসপ্রথার বিস্তারের বিরুদ্ধে ছিলেন, প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হতেই দক্ষিণের সাতটি রাজ্য আমেরিকা থেকে আলাদা হয়ে যায়। তারা তাদের এলাকার আমেরিকান সেনাঘাঁটি আর সরকারি সম্পত্তি দখল করে নেয়। যুদ্ধ শুরু হয় ১৮৬১ সালের ১২ এপ্রিল, যখন দক্ষিণ ক্যারোলিনার ফোর্ট সামটারে কনফেডারেসি গোলাবর্ষণ করে। যুদ্ধের আগুন জ্বলে উঠতেই উত্তর-দক্ষিণে উন্মাদনা ছড়িয়ে পড়ে; লোকজন হুড়মুড় করে সেনাবাহিনীতে নাম লেখাতে শুরু করে। যুদ্ধ শুরুর পর আরও চারটি দক্ষিণী রাজ্য আলাদা হয়ে যায়। জেফারসন ডেভিসের নেতৃত্বে এগারোটি রাজ্য নিয়ে কনফেডারেসি গঠিত হয়। এরপর চার বছর ধরে, মূলত দক্ষিণের মাটিতে, ভয়াবহ লড়াই চলে।
১৮৬১-৬২ সালে পশ্চিম ফ্রন্টে ইউনিয়ন বেশ কিছু জায়গা দখলে নেয়, কিন্তু পূর্ব ফ্রন্টে কোনো পক্ষই স্পষ্ট জয় পায়নি। ১৮৬৩ সালের ১ জানুয়ারি লিঙ্কন "দাসমুক্তির ঘোষণা" জারি করেন, যাতে বিদ্রোহী রাজ্যগুলোর সব দাসকে মুক্ত ঘোষণা করা হয়। দেশের ৪০ লাখ দাসের মধ্যে ৩৫ লাখের বেশি এর আওতায় পড়ে। পশ্চিমে, ১৮৬২ সালের গ্রীষ্মে ইউনিয়ন কনফেডারেসির নদী নৌবাহিনী ধ্বংস করে, তাদের পশ্চিমাঞ্চলীয় সেনাদল ভেঙে দেয়, আর নিউ অরলিন্স দখল করে। ১৮৬৩-এ ভিক্সবার্গ অবরোধে ইউনিয়নের জয় মিসিসিপি নদী বরাবর কনফেডারেসিকে দুই ভাগ করে দেয়। এদিকে, কনফেডারেট জেনারেল রবার্ট ই. লি উত্তরে হামলা চালালে গেটিসবার্গের যুদ্ধে তিনি হেরে যান। পশ্চিমের জয়ের পর ১৮৬৪-এ ইউলিসিস এস. গ্রান্টকে ইউনিয়নের সব বাহিনীর প্রধান করা হয়। ইউনিয়ন নৌবাহিনী কনফেডারেট বন্দরগুলো শক্তভাবে ঘিরে ফেলে এবং সব দিক থেকে আক্রমণ শুরু করে। এর ফল হিসেবে ১৮৬৪-এ উইলিয়াম টেকামসি শেরম্যান আটলান্টা দখল করেন, তারপর সমুদ্রের দিকে "মার্চ টু দ্য সি" অভিযান চালিয়ে সাভানা নিয়ে নেন। যুদ্ধের শেষ দিকে রিচমন্ডের প্রবেশপথ পিটার্সবার্গে দশ মাস ধরে তুমুল লড়াই হয়। অবশেষে কনফেডারেটরা রিচমন্ড ছাড়ে। ১৮৬৫-এর ৯ এপ্রিল, অ্যাপোম্যাটক্স কোর্ট হাউসে যুদ্ধের পর লি গ্রান্টের কাছে আত্মসমর্পণ করেন, যা যুদ্ধের সমাপ্তির পথ খুলে দেয়। লিঙ্কন এই জয় দেখলেও ১৪ এপ্রিল এক হত্যাকারীর গুলিতে নিহত হন।
যুদ্ধের শেষে দক্ষিণের অবকাঠামো ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। কনফেডারেসি ভেঙে পড়ে, দাসপ্রথা উঠে যায়, আর ৪০ লাখ কৃষ্ণাঙ্গ মানুষ মুক্তি পায়। এরপর পুনর্গঠনের যুগ শুরু হয়—দেশকে গড়ে তোলা, বিচ্ছিন্ন রাজ্যগুলোকে ফিরিয়ে আনা, আর মুক্ত দাসদের অধিকার দেওয়ার চেষ্টা চলে। আমেরিকার ইতিহাসে এই গৃহযুদ্ধ সবচেয়ে বেশি আলোচিত ঘটনা। আজও এর নানা দিক নিয়ে তর্ক, সংস্কৃতিতে প্রভাব আর "কনফেডারেসির হারানো কারণ" নামের গল্প মানুষকে টানে। এই যুদ্ধে প্রথমবারের মতো শিল্পের ছোঁয়া লাগে—রেল, টেলিগ্রাফ, স্টিমশিপ, লোহার জাহাজ আর কারখানায় তৈরি অস্ত্রের ব্যাপক ব্যবহার হয়। প্রায় ৭ লাখ সৈন্য আর অসংখ্য সাধারণ মানুষের প্রাণ যায়, যা এই যুদ্ধকে আমেরিকার ইতিহাসে সবচেয়ে রক্তাক্ত করে। এর নৃশংসতা আর প্রযুক্তি যেন পরবর্তী বিশ্বযুদ্ধগুলোর আগাম ইঙ্গিত দিয়েছিল।
সূচনা
[সম্পাদনা]চার বছর ব্যাপী এই যুদ্ধের সূচনা ঘটে এপ্রিল ১২,১৮৬১ সালে, যখন কনফেডারেট বাহিনী ফোর্ট সামটারে অবস্থানকারী এক ফেডারেল বাহিনীকে আক্রমণ করে। এই সূচনাদায়ী খন্ডযুদ্ধটি ফোর্ট সামটারের খন্ডযুদ্ধ নামে পরিচিত।
আমেরিকার গৃহযুদ্ধ, আন্তঃ প্রাদেশিক যুদ্ধ নামেও পরিচিত, অথবা শুধুমাত্র গৃহযুদ্ধ (নামকরণ দেখুন), যেটা ১৮৬১ সালে শুরু হয়ে ১৮৬৫ সাল অবধি সংঘটিত হয়ে ছিল যখন আমেরিকার সাতটি দাসরাজ্য আমেরিকান ইউনিয়ন বর্জন করে কনফেডারেট স্টেটস অফ আমেরিকা ( কনফেডারেসি অথবা দক্ষিণ) তৈরী করে। বাকি প্রদেশ বা রাজ্য যেগুলো ইউনিয়নের সাথে থেকে যায় সেগুলো ইউনিয়ন অথবা উত্তর নামে প্রচলিত থাকে। যুদ্ধের শুরুটা হয় দাসপ্রথা সম্পর্কিত খুব স্পর্শকাতর একটি ব্যাপার থেকে, আরও সুনির্দিষ্টভাবে পশ্চিমা অঙ্গরাজ্যগুলোতে দাসপ্রথার প্রসারন নিয়ে। বিদেশী কোন শক্তি কোন ধরনের হস্তক্ষেপ করেনি। চার বছর ব্যাপী এই যুদ্ধে ৬০০,০০০ এর ও বেশি সৈন্য মারা যায় এবং দক্ষিণের বেশীরভাগ স্থাপনা ধ্বংসের সম্মুখীন হয়। কনফেডারেসি ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়, দাসপ্রথা বিলুপ্ত হয় এক-ই সাথে শুরু হয় জাতীয় ঐক্য এবং সদ্য স্বাধীন দাসদের তাদের প্রতিশ্রুত অধিকার দেবার অত্যন্ত কঠিন পুনঃনির্মাণ প্রক্রিয়া। ১৮৬০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে আব্রাহাম লিঙ্কনের নেতৃত্বাধীন রিপাব্লিকার পার্টি ইউনাইটেড স্টেটসের অঙ্গরাজ্যগুলোতে দাসপ্রথার বিস্তার এর বিরোধিতা করেন। লিঙ্কন জয়লাভ করেন, কিন্তু তার দায়িত্বগ্রহণের পূর্বেই ৪ঠা মার্চ, ১৮৬১ সালে সাতটি দাসরাজ্য যেগুলোর অর্থনীতি ছিল তাঁত ভিত্তিক, কনফেডারেসি গঠন করে। বিদায়ী ডেমক্রেটিক প্রেসিডেন্ট জেমস বুকানন এবং ক্ষমতাসীন রিপাব্লিকানরা এই বর্জনকে বেআইনি বলে প্রত্যাখ্যান করেন। লিঙ্কনের উদ্বোধনি বক্তব্য ঘোষণা করে যে তার প্রশাসন গৃহযুদ্ধ শুরু করবেনা। আটটি অঙ্গরাজ্য ইউনিয়ন বর্জনের আহবান ক্রমাগত প্রত্যাখ্যান করতে থাকে। কনফেডারেট বাহিনী কনফেডারেসির অধীন অসংখ্য দুর্গ দখল করে। এর মধ্যে একটি শান্তি আলোচনা সংঘটিত হয় এবং তা কোন ধরনের সমাধানের পথ দেখাতে ব্যর্থ হয় এবং দুই পক্ষ রণসাজে সজ্জিত হতে থাকে। কনফেডারেটরা আশা করছিল যে ইউরোপিয়ান শক্তিগুলো হস্তক্ষেপ করবে কেননা তারা কিং কটন এর প্রতি অতিমাত্রায় নির্ভরশীল। পরিহাসের বিষয় এরা কেউই তা করেনি এবং কেউই এই নতুন কনফেডারেট শক্তিকে স্বীকৃতি প্রদান করেনি। সহিংসতা শুরু হয় ১৮৬১ সালের ১২-ই এপ্রিল যখন কনফেডারেট ফোর্স ফোর্ট সামটারের উপর গোলা বর্ষন করে। এটি ছিল ইউনিয়ন বাহিনীর অধীন সাউথ ক্যারোলিনার খুব-ই গুরুত্বপূর্ণ দুর্গ। লিঙ্কন এই দুর্গ পুনরুদ্ধারের জনয় প্রতিটি অঙ্গরাজ্য হতে সৈন্য সরবরাহের ডাক দিলেন। পরবর্তীতে আরও চারটি দাসরাজ্য কনফেডারেসিতে যোগ দেয়, এবার সর্বমোট কনফেডারেট রাজ্যের সংখ্যা দাঁড়ায় ১১টিতে। ইউনিয়ন সীমান্তবর্তী রাজ্যগুলোর দখল নেয় এবং নৌ-অবরোধ সৃষ্টি করে, ফলশ্রুতিতে দক্ষিণের অর্থনীতি একেবারে ভেঙ্গে পড়ে। ১৮৬১-৬২ সালের সময়কালে প্রাচ্যের ভূমিকা যথেষ্ট প্রশ্নবিদ্ধ ছিল। ১৮৬২ সালের হেমন্তে কনফেডারেটরা মেরিল্যান্ডে জড় হয় যেটা কিনা ছিল একটি ইউনিয়ন অঙ্গরাজ্য, পরবর্তীতে ইংরেজ হস্তক্ষেপে কনফেডারেটরা পিছু হটতে বাধ্য হয়। লিঙ্কন তার বিখ্যাত Emancipation Proclamation ঘোষণা করেন এবং এর মাধ্যমে তিনি দাসপ্রথা রহিত করাকে অভিলক্ষ্য হিসেবে ঘোষণা করেন। ১৮৬২ সালে ইউনিয়ন বাহিনী পশ্চিমাঞ্চলে কনফেডারেট নৌবাহিনীকে ধ্বংস করে এবং তারপর পশ্চিমাঞ্চলের কনফেডারেট বাহিনীর বৃহৎ অংশই ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়। ইউনিয়ন বাহিনীর ভিক্সবার্গ দখলে কনফেডারেসি মিসিসিপির দুইপাশে দুইটি ভাগে বিভক্ত হয়ে যায়।
তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- ↑ Nominally, the Russian Empire was allied with the United States, and dispatched two naval vessels, the Alexander Nevsky and the Uragan, with standing orders to attack Confederate shipping in the Atlantic and Pacific in case of a breakdown in relations between Russia and Britain. However, they engaged in no open battles. See: Russian Empire – United States relations.
| এই নিবন্ধটি অসম্পূর্ণ। আপনি চাইলে এটিকে সম্প্রসারিত করে উইকিপিডিয়াকে সাহায্য করতে পারেন। |