বিষয়বস্তুতে চলুন

২ রবিউস সানি

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

২ রবিউল সানি বা ২ রবিউল আখর হলো ইসলামি চান্দ্র বর্ষপঞ্জির চতুর্থ মাস রবিউস সানির দ্বিতীয় দিন, যা হিজরি বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী বছরের ৯১তম দিন হয়। তবে যদি সফর মাস ৩০ দিন পূর্ণ করে, তাহলে এটি হিজরি সনের ৯২তম দিন হিসেবে গণ্য হয়। এই দিনের পর হিজরি বছর শেষ হতে আরো ২৬৩ অথবা ২৬৪ দিন অবশিষ্ট থাকে।

ঘটনাবলি

[সম্পাদনা]
  • ১১ হিজরিরিদ্দার যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর এবং মুসলিমরা বিদ্রোহ দমন করতে সক্ষম হলে খলিফা আবু বকর শাম অঞ্চলের দিকে ইসলামি বিজয়াভিযানের সূচনা করেন। তিনি খালিদ ইবনে সাঈদের হাতে প্রথম পতাকা (লিওয়া) অর্পণ করেন। এটি আরব উপদ্বীপের বাইরে খিলাফতের সংগঠিত সামরিক অগ্রযাত্রার সূচনা ছিল, যা পরবর্তীতে শাম অঞ্চল মুসলিম শাসনের অধীনে আসার পথ তৈরি করে।
  • ৬৪৮ হিজরি–সপ্তম ক্রুসেড চলাকালে ফারিস্কুরের যুদ্ধে মুসলিম বাহিনী ফ্রান্সের রাজা নবম লুইকে বন্দী করে।
  • ১১১৫ হিজরি– উসমানীয় সাম্রাজ্যে জেনিসারি বাহিনী বিদ্রোহ করে সুলতান দ্বিতীয় মুস্তাফাকে ক্ষমতাচ্যুত করে। তিনি প্রায় নয় বছর শাসন করেন এবং ২২তম উসমানীয় সুলতান ছিলেন।[]
  • ১২৪০ হিজরি–মিশরীয় নৌবহর গ্রিক নৌবহরের বিরুদ্ধে “সতম্বালা” নামক যুদ্ধে বিজয় অর্জন করে।
  • ১২৫৭ হিজরি উসমানীয় সুলতান প্রথম আবদুল মজিদ প্রথম ‘মিশর ফরমান’ জারি করেন, যার মাধ্যমে মুহাম্মদ আলী পাশা ও তাঁর বংশধরদের জন্য মিশর ও সুদানের শাসন বংশানুক্রমিকভাবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। ফরমানটি মিশরে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পর্যন্ত কার্যত সংবিধানের মর্যাদায় বহাল ছিল।
  • ১৩৩২ হিজরি– নাজদের আমির আব্দুল আজিজ আলে সৌদ ও হাইলের আমির আবদুল আজিজ আল-মুতাইব আল রশিদের মধ্যে যুদ্ধ সংঘটিত হয় এবং এতে আব্দুল আজিজের বিজয় ঘটে।
  • ১৩৭৬ হিজরি –
  • ১৩৯১ হিজরি – মিশর ও সোভিয়েত ইউনিয়নের মধ্যে ১৫ বছর মেয়াদি বন্ধুত্ব ও সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়; তবে স্বাক্ষরের ৫ বছর পরই তা বাতিল করা হয়।
  • ১৩৯৫ হিজরি –
    • আইনুর রুম্মানা ঘটনা ঘটে, যা লেবানীয় গৃহযুদ্ধের সূচনা বিন্দু হিসেবে বিবেচিত হয়।
    • চাদের প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া তোমবালবায়ে এক অভ্যুত্থানে রহস্যজনক অবস্থায় নিহত হন।
  • ১৩৯৮ হিজরি – ফিলিস্তিনি ফাতাহ আন্দোলনশহিদ কামাল আদওয়ান অভিযান’ পরিচালনা করে (দাল্লাল মুগরাবির নেতৃত্বে সামুদ্রিক অভিযান), যার ফলে ৪০ জন ইসরায়েলি নিহত হয়। জবাবে এর তিনদিন পর ইস্রায়েল দক্ষিণ লেবানন আক্রমণ করে, যা ‘লিতানি অভিযান’ নামে পরিচিত।
  • ১৩৯৯ হিজরি– কুয়েত টাওয়ার উদ্বোধন করা হয়।
  • ১৪০০–
  • ১৪০৩ হিজরি – তর্কি বিমানসংস্থার ফ্লাইট ১৫৮ তুরস্কের আঙ্কারার এসেনবোয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিধ্বস্ত হয়; এতে ৪৭ জন নিহত ও ২০ জন আহত।
  • ১৪০৪ হিজরি–তিউনিসিয়ায় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়, যখন রুটির দাম বৃদ্ধির ফলে রক্তক্ষয়ী বিক্ষোভ শুরু হয়। এই ঘটনাকে গণমাধ্যমে ‘রুটি বিপ্লব’ বলা হয়।
  • ১৪১১ হিজরি–লেবানীয় জাতীয় শ্রমিক দলের মহাসচিব দানি শামউন তার নিজ বাসভবনে স্ত্রী ও দুই সন্তানসহ হত্যাকাণ্ডের শিকার হন।
  • ১৪২৬ হিজরি – প্রথম আরব-লাতিন আমেরিকা শীর্ষ সম্মেলনে অধিকাংশ আরব নেতা অনুপস্থিত ছিলেন। এডে ২২টি আরব দেশের মধ্যে মাত্র ৬ জন নেতা এতে অংশ নেন। আরব কূটনীতিকরা জানান, এই সম্মেলনে নেতাদের অংশগ্রহণ না করার জন্য আরব দেশগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তীব্র চাপ প্রয়োগ করা হয়েছিল।
  • ১৪৩০ হিজরি – চেচেন কমান্ডার সালিম ইয়ামাদায়েভ সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই আমিরাতে হত্যাকাণ্ডের শিকার হন।[]
  • ১৪৩২ হিজরি–তিউনিসিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা দপ্তর বিলুপ্ত করার সিদ্ধান্ত দেয়, যা সাবেক রাষ্ট্রপতি জাইনুল আবিদিন বেন আলির শাসনামলে রাজনৈতিক কারণে গ্রেপ্তার ও নির্যাতনের অভিযোগে অভিযুক্ত ছিল।
  • ১৪৩৬ হিজরি–ইয়েমেনের রাষ্ট্রপতি আব্দে রাব্বুহ মনসুর হাদি ও প্রধানমন্ত্রী খালেদ বাহাহের নেতৃত্বাধীন সরকার পদত্যাগ করে।
  • ১৪৩৭ হিজরি –
    • ইস্তাম্বুলের সুলতান আহমেদ স্কোয়ারে শক্তিশালী বিস্ফোরণ; এতে অন্তত ১০ জন নিহত ও ১৫ জন আহত।
    • ইরানের বিপ্লবী গার্ড নৌবাহিনী ইরানি জলসীমায় অবৈধভাবে প্রবেশ করার কারণে দুটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ও এসবের নাবিকদের আটক করে।
  • ১১৯৮ হিজরি – আবু বকর আল-মুল্লা আল-আহসাই, সৌদি হানাফি ফকিহ, কবি ও লেখক।
  • ১৩৩৪ হিজরি – ইলিয়াস মুয়াদ্দিব, মিশরীয় অভিনেতা।
  • ১৩৩৬ হিজরি–জামাল আব্দেল নাসের, মিশরের দ্বিতীয় রাষ্ট্রপতি।[]
  • ১৩৬০ হিজরি – নূর আশ-শরীফ, মিশরীয় অভিনেতা।
  • ১৩৯১ হিজরি – মানাল আফিফি, মিশরীয় অভিনেত্রী।
  • ১৩৯২ হিজরি –
    • মুঈন শরিফ, লেবানীয় গায়ক।
    • শাম্মা আল-কুয়ারি, কাতারি লেখিকা।
  • ১৩৯৬ হিজরি – কুসাই খাউলি, সিরীয় অভিনেতা।
  • ১৪১৮ হিজরি – ফাওয়াজ হামাদ আল-বাদর, কুয়েতি অভিনেতা

মৃত্যু

[সম্পাদনা]
  • ৬৩৪ হিজরি – ইবনে মারজ আল-কুহল; আন্দালুসীয় (মুসলিম স্পেন) কবি।[]
  • ১৩৫৭ হিজরি–হামাদ আল-মুবারক আল-সাবাহ; কুয়েতি শাসকগোষ্ঠীর প্রভাবশালী ব্যক্তি।
  • ১৩৬৪ হিজরি – মারুফ আল-রুসাফি; প্রখ্যাত ইরাকি কবি, প্রভাবশালী আরবি সাহিত্যিক
  • ১৩৮৬ হিজরি – মুসা কাশিফ আল-গিতা; ইরাকি ফকিহ ও লেখক।
  • ১৩৯৯ হিজরি – মোস্তাফা আল-বারজানি; ইরাকি কুর্দি নেতা ও রাজনীতিবিদ, কুর্দি আন্দোলনের নেতা।
  • ১৪১১ হিজরি – দানি শামউন; লেবানীয় রাজনীতিবিদ।
  • ১৪১৬ হিজরি – নাবিল দাসুকি; মিশরীয় অভিনেতা।
  • ১৪২১ হিজরি–কাজিম আল-কাল্লাফ; কুয়েতি অভিনেতা ও নাট্যপরিচালক।
  • ১৪৩০ হিজরি – সালিম ইয়ামাদায়েভ; চেচেন সামরিক কমান্ডার।
  • ১৪৩৪ হিজরি – সাত্তাম বিন আবদুল আজিজ আলে সৌদ; সৌদি আরবীয় রাজপুত্র ও আমির

আরো দেখুন

[সম্পাদনা]

গ্রন্থপঞ্জি

[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. Sakaoğlu, Necdet (2015). Bu Mülkün Sultanları. Alfa Yayıncılık। পৃ. ২৮৫। আইএসবিএন ৯৭৮-৬-০৫১-৭১০৮০-৮
  2. "BBCArabic.com | أخبار العالم | دبي تتهم نائب الرئيس الشيشاني باغتيال يامادايف"news.bbc.co.uk। ৭ মার্চ ২০১৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  3. الصيداوي، معارك عبد الناصر، مركز الوطن العربي للأبحاث والنشر، بيروت، 2003
  4. خير الدين الزركلي (2002)، الأعلام: قاموس تراجم لأشهر الرجال والنساء من العرب والمستعربين والمستشرقين (ط. 15)، بيروت: دار العلم للملايين। পৃ. ৬/২৭।

বহিঃসংযোগ

[সম্পাদনা]